জীবনের বাস্তবতার গল্প

জীবনের বাস্তবতার গল্প

জীবনযাপন

জীবনের গল্পটা ছোটো বেলার গল্প থেকেই শুরু করি,প্রথম দিন যখন প্রথম শ্রেনীতে ভর্তী হলাম, নতুন স্কুল,নতুন ড্রেস,নতুন বই খাতা ও কিছু নতুন মুখ। সব মিলিয়ে বলতে হলে সেই দিন খুব আনন্দই পেয়েছিলাম।
এ চলে গেলো কয়েক দিন, দিন থেকে মাস,মাস থেকে বছর।ভালোই চলছিলো সব কিছুই।
কিন্তু ধীরে ধীরে সেই ভালো লাগার মুখ গুলো কেমন যেনো অতিষ্ঠ হতে লাগে,সাথে বই, খাতা, কালম,স্কুল ড্রেস, এমনি স্যারদের ও।
এই ভাবে চলতে থাকে, একসময় স্কুল ছেড়ে দেই।
কিন্তু সেই চেনা মুখ, স্কুল, স্কুল ড্রেস,শফিক স্যার সেই সব কিছুই আজো আমার চোখে ভেঁসে উঠে।
যদিও সময় পরিবর্তন হয়েছে, এই সময়ের পরিবর্তনে কে কোথায় আছে তা অজানাই রয়ে গিয়েছে।
তবুও মনের স্মৃতিচরে বিন্দু বিন্দু বালুকণার মতো তাদের সবার স্মৃতিগুলোও বিন্দু বিন্দু হয়ে এক বিশাল স্মৃতি চর হয়ে আছে।
সময়ের পরিবর্তনে হয়তো তারা সেই সতেরো বছর আগের পুরাতন দিনগুলোর কথা একবারের জন্য ও মনে করে না।
এসবের সাথে সাথে ভুলে গেছে সেই সতেরো বছর আগের সেই আমাকেও। আর একটা হয়তো নিয়ম!
আমার জীবনে অনেক মানুষ পেয়েছিলাম যাদের ভালোবাসায় ক্ষণিকের সাড়া দিয়েছিলাম, প্রয়জনে এবং অপ্রয়জনে তাদের কাছে ফিরে গিয়েছি বার বার।
কিন্তু আজ আমরা একই আকাশের নিচে থেকেও আমি তাদের থেকে বহুদূরে,হয়তো সেই মানুষগুলোর মধ্যে কেউ আমাকে মনে রাখে নাই,সবাই নিজের জীবন গোছাচ্ছে।
সময় নামক অদৃশ্য গাড়িটাই ছুটে চলছে আমাদের মতো গন্তব্যহীণ যাাএিদের নিয়ে। হয়তো তারা সবাই এক একজন দূরত্ব বজায় রেখে নিজ নিজ ষ্টেশনে নেমে পড়বে। পথের শেষে শুরু শূন্য হয়ে গাড়িটাই থাকবে।এটাই হয়তো সময়ের বিধান।
কৈশোর সময়ে আমরা সবাই একসাথে কানামাছি খেলতাম, একদিন আমরা কয়েকজন বন্ধ মিলে একটা প্ল্যান করি,
সেখানে আমিই ছিলাম ডিটার,প্রতিদিন রাত বারোটার পরে সবাইকে সেখানে একটিব থাকতেই হবে।
সেখানে মোবাইলে সবাই সবার খোঁজ খবর নিতো, খেলা সম্পর্কে ও বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হতো, বিদেশি ও বিভিন্ন বিভাগের মেম্বার ছিলো আমাদের এখানে।
যাদের সাথে দেখা না হাওয়া সত্বেও সবার সাথে অনেক ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল।
তিন বছর পড়ে যখন আমি মালয়েশিয়া চলে যাই , ব্যস্ততার কারণে খেলায় আমি আর আসতে পারি না,ধীরে ধীরে সবাই প্লেন থেকে চলে যায়।
একটা সময় তারা সবাই খেলাটা ছেড়ে দেয়। বাহিরের বিভাগের মেম্বাররাও অন্য ক্লেনে চলে গিয়েছে, শুধু আমি একাই সেখানে পড়ে থাকি,,
আজ ও সেই অ্যাপটি স্মৃতি হিসেবেই হয়ে গেছে আমার কাছে, মোবাইলের অন্য অ্যাপ এর সাথে, হয়তো তারাও নতুন লিডার পেয়ে ভুলে গেছে এই আমাকে।ভুলে গেছে সেই ফ্রেন্ডস ফর ইবার ক্লেনের কথাও,হয়তো তারা আর কোনোদিনও সেই ক্লেনে ফিরে আসবে না,, আর এটাই হয়তো নিয়ম।নতুন এক উদ্দশ্যহীন পথে পায়চারী করে চলছি আমিও এখন,ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করে আসতে শুরু করি এই ভার্চুয়াল জীবনে।আর এখানে নতুন করে আবার অনেক বন্ধুও পেয়ে গিয়েছি। ফেইসবুকে নিউজ ফিডে কারো পোস্ট পাওয়া মাএই আমি লাইক,কমেন্ট করতাম। আর সময় পেলেই রেডিও’তে গল্প পড়ি।
সেই গল্পগুলো পড়ে অনেকবারই মনের আকাশে বৃষ্টি হতো আবার বৃষ্টি শেষে রৌদ্র ও উকি দিতো। হয়তো নতুন পথে নতুন কোনো জীবন বাধা পড়বে আমার এই জীবনের সাথে।হয়তো সেখানে থেকে আরেকটি নতুন কোনো মুখ দেখতে পাবে ধরণী।ক্রমশই দূরত্ব বেড়ে যাবে আমার আর ফেইসবুকের মধ্যে। হয়তো আর নিউজ ফিডে আর আমার কোনো পোস্ট পাওয়া যাবে না।হয়তো ফ্রেন্ড লিস্টে অনেকই অনিচ্ছাসত্ত্বেও ভুলে যাবে এই আমাকে। ইনবক্সেটাও হয়তো শূন্যতা অনুভব করবে। গ্রুপের সবাই আড্ডা পোস্টে নতুন কাউকে পেয়ে নতুন করে আড্ডায় মেতে উঠবে। ফেইসবুক ও গ্রুপে নতুরা ভির জমাবে। তাদের মধ্যে সবাই হয়তো জানবেই না রনি নামের এক প্রহরী কেউ ছিলো এই পথে। ফ্রেন্ডলিস্টের অনেকেই হয়তো সময়ের ব্যবধানে সরে পরবে এই পথ থেকে, শুধু রনি নামের আইডিটাই পড়ে থাকে পুরাতনদের লিস্টে। আর সেই প্রোফাইলের ছবিটাই আমার অস্তিত্বের জানান দিবে।
কারো রিকুয়েষ্ট ও কনফার্ম করা হবেনা, ততো দিনে হয়তো সবাই বুঝে যাবে,,
এই আইডির মালিকটা হয়তো আর এই পৃথিবীতেই নেই,,,,,,
এভাবেই তো জীবন থেকে সবাই হাঁড়িয়ে যায়।

1 thought on “জীবনের বাস্তবতার গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *